দৈনিক সৈকত ২৫ বছর পূর্তি ও ২৬ বছরে যাত্রা

unnamed.jpg

বিশেষ সম্পাদকীয়

আজ সেই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। যেদিন থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ নামের

দেশটির অভ্যুদয়ের জন্য রক্তক্ষয়ী যাত্রা। সেই দিনটিকে আমরা বলি, স্বাধীনতা দিবস। এই

দিনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই সালাম ও অভিনন্দন এবং

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি কামনা।

স্বাধীনতার এই দিনে আরেকটি ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়েছিল কক্সবাজারে। আজ থেকে

ঠিক ২৫ বছর আগে এই শহরে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে যাত্রা

করেছিল দৈনিক সৈকত। কক্সবাজারের ইত্তেফাক খ্যাত এই পত্রিকাটি আজ হাঁটি হাঁটি পা

করে তার অগ্রযাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। আজ ২৬ মার্চ ২০১৭, রোববার আমাদের প্রিয়

পত্রিকা দৈনিক সৈকত ২৬ বছরে পা দিলো।

১৯৭১ সালে যেমন বহু ত্যাগ-তীতিক্ষা ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল,

মহিমান্বিত ও স্বর্ণোজ্জল বিজয়ের দিনটি এসেছিল, সেই দিনেই আজ থেকে ২৫ বছর

আগে আনুষ্টানিক যাত্রা করেছিল কক্সবাজারের মাটি ও মানুষের প্রিয় মুখপত্র দৈনিক

সৈকত।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং প্রচার

বিমূখতায় উন্নয়ন বঞ্চিত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর ও অপার সম্ভাবনাময়

কক্সবাজারকে জাতীয় ও বিশ্ব পরিমন্ডলে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ জেলার

প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল দৈনিক সৈকত। পাঠক প্রিয়তাকে

পুঁজি করে যার যাত্রা শুরু সংবাদপত্র জগতে এক নতুন আলোর উদ্ভাস ঘটিয়ে হাঁটি

হাঁটি পা পা করে জেলার নির্যাতিত-শোষিত মানুষের আস্থার প্রতীক সেই ‘দৈনিক

সৈকত’ বাঙ্গালী জাতির স্বর্ণোজ্জ্বল আজকের এই দিনে ২৬ বছরে পদার্পণ করলো।

অনেক ঝড়-ঝাপটা, সংঘাত, রেষারেষি ও কাঠখড় পুড়িয়ে শোষিতের আত্মার গণমাধ্যম

দৈনিক সৈকত দীর্ঘ ২৫ বছর অতিক্রম করতে পারায় মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে অশেষ

শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি সুদীর্ঘ পথচলায় অগণিত মানুষের নির্ভরতার আস্থার

প্রতীক পাঠক সমাদৃত দৈনিক সৈকতের ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সকলকে জানাই

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক অভিনন্দন, মোবারকবাদ ও ফুলেল শুভেচ্ছা।

অসংখ্য প্রাকৃতিক নিদর্শন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বহু দৃষ্টিনন্দন প্রত্মতাত্ত্বিক ও

অগণিত নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলির সমাহারে সমৃদ্ধ জেলার নাম কক্সবাজার। কিন্তু ৯০ দশকেও

পর্যটন সম্ভাবনাময় কক্সবাজার একটি অপরিকল্পিত ও ভূতুড়ে শহর ছিল। যেমন ছিল না উন্নত

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ঠিক তেমনি ছিল না সুপ্রশস্থ

রাস্তাঘাট, সুবিধা সম্বলিত হোটেল-মোটেল- কটেজ এবং পর্যটক আকর্ষণীয় বিনোদন

কেন্দ্র। তখন প্রচার না থাকায় পৃথিবীর দীর্ঘতম মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের গর্বিতার যে

কক্সবাজার তা দেশ বিদেশের পর্যটকরা জ্ঞাত হওয়া তো দূরে থাক জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও

অবগত ছিল না। যার কারণে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আগমন ছিল যেমন অতি নগণ্য, ঠিক

তেমনি অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল অপার সম্ভাবনাময় কক্সবাজার। তাই “প্রচারে

প্রসার ঘটে” এই প্রবাদ বাক্যের প্রতি দৃঢ় আস্থা সঞ্চারিত হলে সেই সময়ে একটি

দৈনিক পত্রিকা বের করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনেক দেন দরবারের পর ১৯৯২

সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে দৈনিক সৈকতের যাত্রা শুরু হয়, ইনশাআল্লাহ।

যাত্রার শুরু থেকে দৈনিক সৈকত কক্সবাজারকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচয় করার

প্রয়াসের পাশাপাশি দেশের পর্যটনের বিস্তার, কক্সবাজারকে জাতীয়ভাবে উপস্থাপন,

সর্বোপরি এখানকার উন্নয়নে তথ্যভিত্তিক সংবাদ, প্রবন্ধ প্রকাশ করে। অবশেষে তা

সরকার, বিনিয়োগকারী, বিত্তশালী এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দৃষ্টি কাড়তে

সক্ষম হয়েছে। যার ফসল দৈনিক সৈকতের ২৫ বছর পূর্তির দিনে এক সময়ের অবহেলিত

কক্সবাজার আজ সার্বিক উন্নয়নের খ্যাতি পেয়েছে ‘পর্যটন রাজধানী’। ফলে

প্রতিনিয়ত অগণিত পর্যটকদের কোলাহলে পরিপূর্ণ থাকে পর্যটন শহর। সুতরাং

নিঃসংকোচে বলা যায়, এক সময়ের জঞ্জালময় ও চির অবহেলিত কক্সবাজারের উন্নয়ন এবং

পর্যটন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে কোন সংবাদপত্র ভূমিকা পালন করে

থাকলে তা ‘দৈনিক সৈকতই’ অগ্রগণ্য।

শুধু তাই নয়, সুদীর্ঘ পথচলায় অগণিত মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে

দাঁড়িয়েছে দৈনিক সৈকত। এ যাত্রাপথে পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী গোষ্ঠির অবিচল সমর্থন

দৈনিক সৈকত পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করেছে। সৃষ্টি করেছে সত্য অনুসন্ধানের

এক মহাসড়ক।

আগামী যাত্রাপথেও তাই ‘দৈনিক সৈকত’ তার বিগত দিনের অর্জন ও গণমানুষের

স্বপ্নসাধকে জিঁইয়ে রাখতে চায়। সচেতন পদক্ষেপে সৈকতের কর্মপ্রবাহ কক্সবাজার

জেলায় বিশেষ প্রভাব রেখেছে। আর তার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার দৈনিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে

সবচেয়ে বেশী পাঠকপ্রিয় পত্রিকার গৌরবের মুকুটও জুটেছে দৈনিক সৈকতের।

দৈনিক সৈকত কেবলমাত্র গতানুগতিকতার আবর্তে ঘুরপাক খাওয়া সংবাদপত্র নয়, এটি

একটি চেতনার নাম, এটি একটি অঙ্গীকারের নাম। অঙ্গীকার সমাজের কাছে, দেশবাসীর

কাছে। আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিন বদলের শ্লোগান আসছে সমাজের নানা স্তর পর্যায় থেকে

পরিবর্তনের কথা উচ্চারিত হচ্ছে। দেশ ও সমাজের এই উপলব্ধির প্রবাহের সাথে সহযাত্রী

হয়েও আজ দৈনিক সৈকতের জন্য শ্লাঘার বিষয় হলো, ২৫ বছর আগেই এমনই প্রত্যয় নিয়ে

সেদিনের ‘দৈনিক সৈকত’ বহুযুগের অবহেলিত ও পশ্চাদপদ কক্সবাজার শহরে যাত্রা শুরু

করেছিলো। প্রকৃতই বদলে দিতে পেরেছিলো এখানকার সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায়

প্রাগ্রসরতা এবং প্রযুক্তি প্রয়োগে নবভাবনার জগত ও প্রকৃতি।

সংবাদপত্রের সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও দৈনিক সৈকত অনুকরণীয় আদর্শে

প্রতিপালন করেছে। কক্সবাজারে সন্ত্রাস প্রতিরোধে এবং বাধাহীন মুক্ত সাংবাদিকতার

অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে ‘দৈনিক সৈকত’ যে সাহসি ভূমিকা পালন করেছে, তা আজ

ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়, যে আদর্শ দৈনিক সৈকত সমাজের জন্য কল্যাণকর বিষয়ে

সংবাদ প্রকাশের মধ্যেই নিজের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখে না এ সকল জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে

নীতি প্রণেতাদের ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে প্রতিনিয়ত জনমত গঠন করে।

চলার পথে সবকিছুতেই আমরা ছিলাম ‘প্রথম’। আমাদের চলার পথে ‘কক্সবাজারের

ইত্তেফাক’ নামের খ্যাতি যেমন আমরা পেয়েছি, তেমনি এই সংবাদপত্র জগতে

অনেককিছু সৃষ্টিতেও আমরা ছিলাম বরাবরই এগিয়ে। এই জেলার সংবাদপত্র জগতে প্রথম

কম্পিউটারাইজ প্রযুক্তি নিয়ে এসেছিল এই দৈনিক সৈকতই। একই ভাবে প্রথম

অফসেট প্রেসে ছাপা, প্রথম ট্যাবলয়েড কাগজে পত্রিকা প্রকাশনা সবই হলো দৈনিক

সৈকতের প্রথম যাত্রার আনন্দ। অন্যরা কে কী প্রচারণা চালালো তা নয়, কক্সবাজারের সংবাদপত্র

জগতে যা কিছু নতুনত্ব তার সব কৃতিত্বের ভাগিদার কেবল মাত্র দৈনিক সৈকত।

চলার পথের অগণিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবারও দ্ব্যর্থহীন

ভাষায় অঙ্গীকার করছি যে, বিগত দিনগুলোতে দৈনিক সৈকত যেভাবে কক্সবাজারের উন্নয়ন

এবং সকল প্রকার সন্ত্রাস ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করে এসেছে,

আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে বলতে চাই, সকলের প্রেরণাতেই আমরা প্রতিযোগিতাপূর্ণ দিনগুলোতে বন্ধুর

পথ অবলীলায় অতিক্রম করতে পেরেছি। আমরা বিশ্বাস করি দূর্ণীতি, সন্ত্রাসবাদ,

বোমাবাজি, আত্মঘাতি হামলা, বিভেদ, বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ ইত্যাদির কবল থেকে দেশকে মুক্ত

রেখে সার্বজনীন ঐক্যানুভূতিকে বাংলাদেশের পথচলায় কর্মোদ্যম ও কর্মনিষ্টাই মূল শক্তি।

পরম করুণাময় মহান আল্লাহ আমাদের আগামী পথচলায়ও সহায় হোন। দৈনিক সৈকত ২৬

বর্ষে পদার্পণ সফল হউক, আমাদের সকলের কামনা।

সবশেষে দৈনিক সৈকত এর ২৫ বছর পূর্তি এবং মহান জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবসে সকল

পাঠক, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, সাংবাদিক, হকার ও প্রিয়

সূধীজনসহ জেলাবাসী তথা সমগ্র দেশবাসীকে জানাই স্বাধীনতার শুভেচ্ছা,

মোবারকবাদ ও অভিনন্দন।

মাহবুবর রহমান

সম্পাদক ও প্রকাশক

দৈনিক সৈকত

Top