অবিস্মরণীয় জয়ে কে হবেন কাণ্ডারি?

Sri-Lanka-v-Bangladesh20170319143556.jpg

কি হবে? শততম টেস্টে অবিস্মরনীয় জয়ের দেখা মিলবে তো? ‘১০০ নম্বর’ টেস্ট শুধু সংখ্যায় নয়, সাফল্যেরও মাইলফলক হয়ে থাকবে? নাকি মুলতান-ফতুল্লার পর স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনার করুণ প্রতীক হবে কলম্বো দ্বিধা- সংশয় মাথা নানা প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। দেশ থেকে হাজার মাইল দুরে ভারত মহাসাগর ঘেঁষা কলম্বোয় বসেও অনুমান করা যায় স্বাধীনতার মাসে ক্রিকেটে স্মরণীয় জয়ের প্রহর গুনছে গোটা বাংলাদেশ।

মুশফিক বাহিনীর জয় দেখতে উন্মুখ অপেক্ষায় কোটি ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ বাঙ্গালী। রাজ্যের জল্পনা-কল্পনা। কে হবেন কান্ডারি? শততম টেস্ট জয়ের নায়ক হবেন কে? ১৯১ রানের মাঝারি টার্গেট ছোঁয়ার পথে লাঞ্চের আগে ১০ রানে সৌম্য সরকার ও শূন্য রানে ইমরুল কায়েসকে হারিয়ে খানিক দিশেহারা দলকে সাহসী নাবিকের মত পথ দেখাবেন কে?

কার হাত ধরে উড়বে জয়ের নিশান? কে হবেন কান্ডারী? নানা কৌতুহল। ইতিহাস জানাচ্ছে, বাংলাদেশের রান তাড়া করে টেস্ট জেতার রেকর্ড মাত্র দুটি। একটি বিদেশে। আর অন্যটি দেশের মাটিতে। প্রথমবার দেশের বাইরে রান তাড়া করে জয়ই শুধু নয়।

২০০৯ সালে গ্রানাডায় জর্জে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪ উইকেটের সে ঐতিহাসিক জয়টিই ছিল দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট বিজয়। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের ম্যাচও হয়ে আছে। সে ম্যাচে জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। তার বীরোচিত- সংগ্রামী ৯৬ রানের হার না মানা ইনিংসের ওপর ভর করেই দেখা মিলেছিল দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট জয়।

 

এরপর দেশের মাটিতে যে রান তাড়া করে জয়, সেটা আসলে তেমন ধর্তব্য কিছু না। কারন জিততে বাংলাদেশকে করতে হতো ১০১। ২০১৪ সালের অক্টোবরে শেরে বাংলায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওই সামান্য (১০১) কটা রান করতেই নাভিশ্বাস উঠেছিল টাইগারদের। ৮২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছিল, সে কঠিন সংকটে হাল ধরেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। পরে তাইজুল এসে ফিনিশিং টাচ দিলে স্বস্তির জয়ের দেখা মেলে।

আজ কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে ১৯১ রান তাই চিন্তা জাগাচ্ছে। যদিও হাতে সময় পর্যাপ্ত ৭৪ ওভার। ওভার পিছু ২.৫৮ রান। এমন বেশি কিছু নয়। একটু দেখে খেললেই হবে; কিন্তু শুরুতে সেই দেখে খেলাই হলো না। শুরুতেই ভুল পথে পা বাড়ালেন সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের বলে অযথা মাথা উঁচু করে লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে টার্নে পরাস্ত সৌম্য ক্যাচ দিলেন লং অনে।

আর বাঁ-হাতি স্পিনারের বলে অফস্ট্যাম্পের ঠিক বাইরে ব্যাট পেতে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ওয়ান ডাউনে নামা ইমরুল। ম্যাচের যা অবস্থা, তাতে এমন ভুল শট দলকে বিপদে ফেলার জন্য যথেষ্ট। যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন পাথরে মাথা ঠুকলেও তা আর ফিরে আসবে না। সৌম্য-ইমরুলের পর আর যারা আছেন, তাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

তামিম-সাকিব ও মুশফিক- এই তিন স্তম্ভের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। তাদের অভিজ্ঞতা আছে। দলের প্রয়োজনে হাল ধরার রেকর্ডও আছে। এর মধ্যে সাকিব সবার চেয়ে এগিয়ে। কারণ ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই ক্যারিবীয় দ্বীপ গ্রানাডার সেন্ট জর্জে কেমার রোচের ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণের মুখে সাকিবই হাল ধরেছিলেন। ২১৫ রান করতেই ধুঁকছিল বাংলাদেশ।

পরে সাকিবের হাত ধরেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। ১৫৩ মিনিটে একদিনের মেজাজে (৯৭ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৯৬) খেলেই দল জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। আজ কলম্বোর পি সারায় তাই সাকিবই সবচেয়ে বড় নির্ভরতা।

কলম্বোর পি সারাকে গ্রেনেডার সেন্ট জর্জসের ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রুপান্তরিত করতে পারলে আর চিন্তা নেই। দেশকে বহুবার দারুন সূচনা এনে দেয়ার রেকর্ড আছে তামিম ইকবালের। দেশের হয়ে সর্বাধিক আট টেস্ট সেঞ্চুরিরও মালিক তামিম। তবে ব্যাট হাতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেবার রেকর্ড খুব একটা নেই। টেস্টে না থাকলেও ওয়ানডেতে বেশ কটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস আছে বন্দর নগরীর এ সাহসী ওপেনারের।

দেশের বাইরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রুপকারও এ বাঁ-হাতি ওপেনার। ২০০৯ সালের ১৬ আগষ্ট বুলাওয়েতে তামিমের ১৩৮ বলে ১৫৪ রানের অবিস্মরনীয় ইনিংসের ওপর ভর করেই জিম্বাবুয়ের ৩১২ রানের পাহাড় টপকে ৪ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

আর মুশফিকতো হর হামেশাই দলের বিপর্যয় ঠেকান। আজ না হয় প্রয়োজন দল জিতিয়েই সাজঘরে ফিরবেন। সঙ্গে দুই তরুণ তুর্কি সাব্বির এবং মোসাদ্দেকও হতে পারেন বড় হাতিয়ার। সাব্বির এরই মধ্যে টেস্টে তিনবার পঞ্চাশে পা রেখেছেন। মোসাদ্দেক টেস্ট শুরুই করলেন ৭৫ রানের বুক চেতানো ইনিংস দিয়ে।

সব মিলে ভয়ের কিছুই নেই। উইকেট এখনো বিপজ্জনক নয়। মাঝে মধ্যে টার্ন হলেও শেষ দিনের পিচ বলেই স্পিনারদের স্বর্গ হয়ে যায়নি। ধৈর্য্য ধরে বলের মেধা ও গুনাগুণ বিচার করলে তিন স্পিনার হেরাথ, পেরেরা ও সান্দাকান আর পেসার লাকমালের গড়া লঙ্কান বোলিংকে সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা কঠিন নয়।

তাই আশাবাদী হবার খোরাক, রসদ ও উপাদান আছে যথেষ্ঠই। সুতরাং, জয়ের আশা করাই যায়।

Top