কাবুলে হামলা আবর্জনার ট্রাকে লুকানো বোমায়

01.jpg

সৈকত ডেস্ক
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরিত শক্তিশালী বোমাটি একটি আবর্জনার ট্রাকে লুকানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার সকালের ব্যস্ত সময়ে চালানো ওই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত ও ৪৬৩ জন আহত হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুরাদ আলী। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা হয়তো কখনোই জানা যাবে না, কারণ গ্রিন জোনে ঢোকার মুখে যে রক্ষীরা ট্রাকটিকে থামিয়েছিল বিস্ফোরণের ধাক্কায় তারা একেবারে ‘নাই’ হয়ে গেছে। এ হামলায় কূটনৈতিক এলাকাটিতে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের অধিকাংশই বেসামরিক আফগান। ইসলামের পবিত্র মাস রমজানের শুরুতে চালানো এই বোমা হামলাটি এ পর্যন্ত কাবুলে চালানো অন্যতম প্রাণঘাতী বোমা হামলা। বোমাটি জার্মানীর দূতাবাসের সুরক্ষিত প্রবেশ পথের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে এবং এতে দূতাবাসটির বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মানীর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের আঘাতে জার্মানীর দূতাবাস ভবনের জানালাগুলো উড়ে গেছে। বিস্ফোরণে দূতাবাসের এক আফগান নিরাপত্তা রক্ষী নিহত ও অন্যরাও নিহতদের মধ্যে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল। তবে হামলাটি কোন স্থাপনা লক্ষ্য করে করা হয়েছে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র বসির মুজাহিদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটি একটি আবর্জনার ট্রাকে লুকানো ছিল। হামলাটির লক্ষ্য জার্মানির দূতাবাস নাও হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কারণ হিসেবে ওই এলাকায় আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ড ও দপ্তর থাকার কথা বলেছেন তিনি। ওই এলাকার কাছে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের বাসভবনও অবস্থিত। কাবুলে বিস্ফোরিত বোমাগুলোর তুলনায় এটি অস্বাভাবিক শক্তিশালী ছিল। এর বিস্ফোরণের ধাক্কায় কয়েকশ মিটার দূরের ঘরবাড়ির জানালা-দরজাও উড়ে যায়। বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি হামলা মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। কিন্তু আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালকরা এ হামলার জন্য তালেবানের সহযোগী গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্ককে দায়ী করেছেন এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগ তাদের সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন। তালেবান এ হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

Top