রোজার তাৎপর্য ঃ তাক্ওয়া অর্জন ও উন্নত জীবন ধারণ

04-1-1.jpg

নুরুল হুদা
মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের জীবনকে সুন্দর, উন্নত, দুঃখমুক্ত, জুলুমমুক্ত, ন্যায় ভিত্তিক, স্বচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্য মানুষের কাছে নবী-রসুল প্রেরণ করেছেন। গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, বিবেক বুদ্ধি প্রদান করেছেন এবং বাধ্যতামূলক করেছেন নামাজ-রোজার মত অসাধারণ ইবাদত ও প্রশিক্ষণের। মানুষের জীবনকে পরিশুদ্ধ করার জন্যে এ দুটি ঈবাদতের (নামাজ-রোজা) রয়েছে বিস্ময়কর ভূমিকা। কিন্তু আমরা এ ইবাদত দুটির সঠিক তাৎপর্য অনুধাবন বা অনুশীলন না করার কারণে আমরা নামাজ-রোজা আদায় করা সত্বেও আমাদের জীবনে ইতিবাচক তেমন কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, রমজানের পুরো একটা মাস রোজা রাখা আমাদের উপর কেন ফরজ করা হল? এর কি তাৎপর্য? যে আয়াতে আল্লাহতায়ালা রোজার আদেশ করেছেন, সে আয়াতটিতেই রোজার তাৎপর্যও সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মানুষ তোমরা যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনি তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপরও ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাক্ওয়া (অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার মত আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার”। সুরা আল বাকারা-১৮৩। কিন্তু আমাদের চরম অন্যায় হল যে, আমরা আদেশটির প্রথমাংশ তথা রোজার অনুষ্ঠানটি নিলেও আদেশটির শেষাংশে রোজার অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে দিতে চাওয়া মুল শিক্ষা ও তাৎপর্য তথা তাক্ওয়া ভিত্তিক জীবন অবলম্বনের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সেটি আমরা অত্যন্ত দায়িত্বহীন ভাবে বিস্মৃত হয়েছি। আর তা এমনভাবে বর্জন করেছি যে, রোজার মত এই মহান ইবাদতটি আমাদের জীবনে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ও মূল্যহীন এক অনুষ্ঠানে পর্যবসিত হয়েছে। আজকে আমাদের রোজা দিনের শুরুতে খাদ্য-পানীয় বর্জনের মাধ্যমে শুরু হয় এবং আবার দিন শেষে খাদ্য-পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে শেষ হয় ; কিন্তু আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় জীবনে রোজার যে একটি মানবকল্যাণকর বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দাবী ছিল (তাক্ওয়া ভিত্তিক জীবন) সে দাবী বাস্তবায়নে আমাদের চরম অনীহা। নিছক অনুষ্ঠান সর্বস্ব সারবত্তাহীন রোজার কোন মুল্য আল্লাহ তায়ালার কাছে নেই। এ প্রসঙ্গে নবী (সা:) বলেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা-অন্যায় কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ করার মধ্যে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই” (বুখারী)। নবী (সা:) আরও বলেন, “নিছক পানাহার ত্যাগ করার নাম রোজা নয়, প্রকৃত রোজা হল অন্যায় ও খারাপ বিষয় ত্যাগ করা” (ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান)। নবী (সা:) আরও বলেন, “তিনটি বিষয় থেকে কোন লোকের মুনাফিক হিসাবে পরিচয় পাওয়া যায় ; যদিও সে নামাজ পড়ে, রোজা রাখে ও নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করে- (১) যখন কথা বলে- মিথ্যা বলে (২) প্রতিশ্র“তির পর তা ভঙ্গ করে। (৩) আমানত (অর্থ-সম্পদ, পদ বা কোন দায় দায়িত্ব) অর্পন করলে খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) করে” (মুসলিম)। হযরত উমর (রা:) বলেন, “শুধুই পানাহার ত্যাগ করা রোজা নয়, রোজা হল মিথ্যা, অন্যায় ও অশোভনীয় বিষয়াদি ত্যাগ করা” (মুসান্নাফ ইবনে আবি শেবা ৪র্থ খন্ড, কিতাবুস সিয়াম)। বিখ্যাত সাহাবী হযরত জাবের (রাঃ)এক লোককে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, “তুমি যদি রোজা রাখ, তাহলে তোমার কান, চোখ ও জিহ্বাও যেন রোজা রাখে এবং তোমার দ্বারা তোমার কোন কর্মচারী যেন কষ্ট না পায়” (মুসান্নাফ ইবনে আবি শেবা ৪র্থ খন্ড, কিতাবুস সিয়াম)। কুরআনে রোজার মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য যে ‘তাক্ওয়া অর্জন’ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে তাক্ওয়া বা ‘আল্লাহ ভীতি’ আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গে থাকতে হবে। হযরত জাবের (রা:) ভাষায়-পানাহার বর্জনের রোজার সঙ্গে চোখ, কান ও জিহ্বার রোজাও রাখতে হয়। নিম্নে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের রোজা সম্পর্কিত দু’একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের রোজা বা তাক্ওয়া নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল। (পরিসরের অভাবে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই)।
১। অন্তরের রোজা : আমাদের ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোজা’ বা ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের তাক্ওয়া’র মধ্যে সর্বপ্রথম যে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির কথা উল্লেখ করতে হয় তা হল আমাদের অন্তর। অন্তরের তাক্ওয়া বা অন্তরে আল্লাহর আনুগত্যের ইচ্ছা ও মানসিক দৃঢ়তা ছাড়া কোন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তাক্ওয়া বা সঠিক কর্মকান্ড অনুশীলন করতে সক্ষম হয় না। কোরআনে সূরা আল-হজ্ব এর ৩২নং আয়াতে ‘অন্তরের তাক্ওয়া’ পরিভাষাটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। নবী (সা:) “তাক্ওয়ার স্থান এখানে’ -এই বলে তিনি তাঁর বুকের দিকে হাত দিয়ে তিন বার ইশারা করেন” (মুসলিম)। আর একটি হাদীসে অন্তরের তাক্ওয়ার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে নবী (সা:) বলেন, “মানুষের দেহে এমন একটি অঙ্গ আছে, যেটি ঠিক থাকলে তার গোটা দেহের অঙ্গ প্রতঙ্গ ঠিক থাকবে, আর সেটি নষ্ট হলে তার গোটা দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ নষ্ট হয়ে যাবে, আর সেটি হচ্ছে মানুষের অন্তর” (বুখারী, মুসলিম)। অন্তরের তাক্ওয়ার সাথে সম্পর্কিত দু’একটি বিষয় : (ক) অহংকার না করা : নবী (সা:) বলেন যার অন্তরে বিন্দু মাত্র অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না” (মুসলিম)। অহংকারী মানুষ, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য মহাবিপদ- এরা সমাজের সর্বত্র অশান্তির আগুন ছড়ায় ও অনধিকার চর্চা করে। এরা সত্যকে অস্বীকার করে- যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে, অন্য সবাইকে নিচ ও হীন মনে করে। অন্য সবার উপর জোর করে হলেও অন্যায়ভাবে কর্তৃত্ব ফলাতে চায়- হরণ করতে চায়- অন্যের নূন্যতম অধিকারটুকুও। এরা সবাইকে ও সবকিছুকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। নবী (সা:) অহংকারের স্বরূপ তুলে ধরেন এই বলে, “অহংকার হল সত্যকে অস্বীকার ও অমান্য করা, মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা-মানুষের অধিকারকে অবমুল্যায়ন করা” (মুসলিম)। গোটা কোরআনের সর্বত্র অহংকারীদের ব্যাপারে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইবলিসের অহংকারের ব্যাপারে বলেন, “সে (ইবলিস) আমার আদেশ মানতে অস্বীকার করল এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে উঠল এবং কাফেরদের (বিধান অমান্যকারী) অর্ন্তভুক্ত হল ( সুরা আল-বাকারা ৩৪)। ফেরাউনের ব্যাপারে বলেন, “সে (ফেরাউন) এবং তার বাহিনীর লোকেরা অন্যায়ভাবেই পৃথিবীতে অহংকার করল, ওরা ধরে নিয়েছিল, ওদের কখনো আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না। অতঃপর আমি তাকে এবং তার গোটা বাহিনীকে ধরে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ, অত্যাচারীদের পরিণাম কি ভয়াবহ হয়েছিল (সুরা আল কাসাস ৩৯-৪০)। “আখেরাতের গৃহতো আমি তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেব, যারা পৃথিবীতে নিজেদের বড়াই-অহংকার-শ্রেষ্ঠত্ব-প্রাধান্য-বিস্তার করতে চায় না এবং তারা কোন রকম বিপর্যয় সৃষ্টি করত চায়না আর শুভ পরিণাম রয়েছে তাক্ওয়ার অধিকারীদের জন্য” (সূরা আল-কাসাস ৮৩)। এ আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা অহংকার ও স্বেচ্ছাচারিতাকে তাক্ওয়ার বিপরীত বৈশিষ্ট্য হিসাবে উপস্থাপন করেছেন।
(খ) ‘অন্তরের তাক্ওয়া’র আর একটি দাবী হলো যে, সবার ও সব কিছুর চাইতে আল্লাহকেই অধিক ভয় করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা যদি মুমিন হও তাহলে আল্লাহকেই তোমাদের অধিক ভয় করা উচিত” (সুরা আত-তাওবা, ১৩)।
(গ) মানুষ বা অন্য কিছুর চেয়ে আল্লাহকে এবং তার বিধানকেই অধিক ভালবাসা। “যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তাদের তো তাঁকেই সর্বাধিক ভালবাসা উচিত” (আল বাকারা, ১৬৫)।
(ঘ) ‘অন্তরের তাক্ওয়া’র আর একটি দাবী হল যে, অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ না থাকা। সবচেয়ে ভাল অন্তরের পরিচয় দিতে গিয়ে নবী (সা:) বলেন “যে অন্তর তাক্ওয়া ও আল্লাহ ভীতিতে পরিপূর্ণ ও পরিচ্ছন্ন। যে অন্তরে নেই কোন পাপাসক্তি-যে অন্তর প্রতিহিংসা পরায়ন নয়। যা অন্যায় ও দুরাচারগ্রস্ত নয়-যে অন্তরে নেই কোন হিংসা ও বিদ্বেষ” (ইবনে মাজা, আল বায়হাকী)। নবী (সা:) আরও বলেন “ আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক অবয়ব ও তোমাদের দেহের দিকে তাকান না-তিনি দেখেন, তোমাদের অন্তর ও তোমাদের কর্ম” (মুসলিম)।
২। জিহ্বার রোজা ঃ জিহ্বার রোজা বা জিহ্বার তাক্ওয়া মানুষের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সত্য বলা, মিথ্যা পরিহার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়া, মিথ্যা বিবৃতি ও বক্তব্য না দেয়া, মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা অপবাদ না দেয়া, গাল মন্দ না করা, ঠাট্টা উপহাস না করা। এছাড়া মানুষের কল্যাণমূলক কথা বলা এবং সুন্দর ভাবে স্বীয় বক্তব্যের উপস্থাপন করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন “হে নবী আমার বান্দাদেরকে বলে দাও, তারা যেন এমন সব কথা বলে যা সর্বোত্তম, কেননা শয়তান (খারাপ কথা দ্বারা) মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উসকানি দেয়। প্রকৃত পক্ষে শয়তান (এখানে শয়তান বলতে জ্বীন ও মানুষ শয়তান উভয়কে বুঝতে হবে) মানুষের প্রকাশ্য শত্র“ (সূরা বনি ইসরাইল, ৫৩)। সুরা আল- বাকারার ৮৩নং আয়াতে মানুষের সাথে সুন্দর ও ভাল কথার আদেশ, নামাজ ও যাকাতের সাথে বরং তার আগেই উল্লেখ করেছেন। নবী (সাঃ) বলেন, “সেই মুসলিম যে তার হাত ও জিহবা দ্বারা অন্য কোন মুসলমানের ক্ষতি করে না” (বুখারী, মুসলিম)। অঙ্গ-প্রতঙ্গের তাক্ওয়ার গুরুত্ব নিচের আয়াত থেকেও উপলব্ধি করা যায় “সেদিন তাদের উপর তাদের জিহবা সমূহ তাদের হাত গুলো ও তাদের পা গুলো তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে” (সুরা আন-নুর, ২৪)। নবী (সাঃ) বলেন, “জাহান্নামে যাওয়ার প্রধান কারণ জিহবা” (তিরিমিযি)।
৩। হাতের রোজা ঃ হাতের রোজা বা তাক্ওয়া হল যে হাতের মাধ্যমে মানুষ যত রকম অপরাধ করতে সক্ষম, সে সব অপরাধ থেকে বিরত থাকা এবং যত রকম ভাল কাজ হাত দ্বারা সম্ভব সে সব কাজ সম্পাদন করা। হাতের অপরাধের দু’একটি উল্লেখ এখানে করা যায়। যেমন ঃ কাউকে প্রহার করা, নির্যাতন করা, সুদ নেওয়া, ঘুষ নেওয়া, মিথ্যা রিপোর্ট, মিথ্যা প্রতিবেদন ও ক্ষতিকর কোন রচনা লেখা, মিথ্যা সাংবাদিকতা করা, মিথ্যা ও অন্যায় রায় লেখা, চুরি ও দুর্নীতি করা ইত্যাদি। আর ভাল কাজের তো কোন সীমা নেই।
৪। চোখের রোজা ঃ চোখের রোজা, কানের রোজা, পায়ের রোজা, পেটের রোজা, যৌনাঙ্গের রোজা ইত্যাদি সবই রোজার আসল তাৎপর্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চিত ভাবেই চোখ কান ও অন্তর এসব কয়টির (ব্যবহার) সম্পর্কে তাকে (মানুষকে) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে” (সূরা বনি ইসরাইল, ৩৬)।
৫। ন্যায় ও সুবিচার ঃ জাতি, ধর্ম, দলমত, নারী-পুরুষ, নির্বিশেষে সকলের সাথে ন্যায় ও ইনসাফ করা। শোষন, ক্ষুধা, দারিদ্র, জুলুম ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করা রোজা ও তাক্ওয়ার সবচেয়ে বড় দাবী। আল্লাহ তায়ালা যত নবী-রসুল পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সাথে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন তার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি আমার রসুলদের সুস্পষ্ট নিদর্শন সহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে গ্রন্থ ও ন্যায় নীতি পাঠিয়েছি যাতে করে মানুষ ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে” (সূরা আল-হাদীদ, ৩৫)। এমনকি যারা আমাদের সাথে যুদ্ধরত ও আমাদের প্রাণের শত্র“ তাদের সাথেও ন্যায় করতে আল্লাহ আমাদের আদেশ করেছেন এবং এটাই তাক্ওয়ার নিকটতম বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। “হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের উপর স্থায়ী ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও ইনসাফের সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাও, কোন জাতির শত্র“তা তোমাদেরকে যেন এমন উত্তেজিত না করে দেয় যার, ফলে তোমরা ন্যায় ও ইনসাফ থেকে সরে যাও। ইনসাফ ও ন্যায় নীতি অবলম্বন ও প্রতিষ্ঠিত কর, এটি তাক্ওয়ার সাথে সর্বাধিক সামঞ্জস্যশীল।
আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাক। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন” (সূরা আল মায়িদা, ৮)। পরিশেষে বলতে পারি, আল্লাহর নির্দেশিত, কোরআনে বর্ণিত জীবন পদ্ধতি অবলম্বন করা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সর্বাত্মক আনুগত্য করা এবং নিজের জীবনে অন্যায় ও জুলুমকে কখনো এবং কোথাও আশ্রয়-প্রশ্রয় ও স্থান করতে না দেওয়াই রোজা ও তাক্ওয়ার আসল তাৎপর্য। আল্লাহ রাসুলের একটি হাদিস দিয়ে লেখাটি শেষ করছি, “তুমি তোমার কোন ভাইকে জালিম ও মজলুম উভয় অবস্থায় সাহায্য কর, লোকেরা জিজ্ঞেস করল, মজলুমকে সাহায্য করার বিষয়টি বোধগম্য কিন্তু জালিমকে কিভাবে সাহায্য করব? জবাবে তিনি বলেন, জালিমকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটাই তাকে সাহায্য করা” (বুখারী, মুসলিম) (লেখক ঃ খতিব, হযরত উসমান জামে মসজিদ, কক্সবাজার।)

Top