সড়কের ক্ষত শুকাবে কখন?

road.jpg

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার:
একদিকে বড় বড় গর্ত অন্যদিকে খানা খন্দক। এসব মিলে বর্তমানে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির উপ-সড়কে পর্যন্ত বিরাজ করছে শোচনীয় অবস্থা। শহরের অধকাংশ সড়কে এখন ক্ষত চিহৃ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। আর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষসহ পথচারিদের। বর্তমানে সড়কগুলোর অবস্থা এতই নাজুক যে নিজ চোখে না দেখলে বা দুর্ভোগের শিকার না হলে বিশ্বাস করা যাবে না। এদিকে সরেজমিনে একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কসহ উপ-সড়কগুলোতে বড় গর্ত, কার্পেটিং উঠে যাওয়াসহ নানা কারণে সড়কগুলোর উপর দিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হরেক রকম যানবাহন, পথচারি ও সাধারণ মানুষদের। এক কথায় বলতে গেলে শহরের সড়ক, উপ-সড়কগুলোর অধিকাংশই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ক্ষত-বিক্ষত এসব সড়ক দিয়ে যানবাহনতো দূরের কথা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিস-আদালত এবং নিত্য নৈমত্তিক কাজে যাতায়াতকারী লোকজনকে শিকার হতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগের। বিশেষ করে শহরের বাজার ঘাটা, ফায়ার সার্ভিস মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, ভোলা বাবুর পেট্টোল পাম্প এলাকা, বার্মিজ মার্কেট, বড় বাজার, আইবিপি রোড, ভিআইপি সার্কিট হাউস, কলাতলী সড়ক, টেকপাড়া সড়ক, মাছ বাজার সড়ক, বাহারছড়া বাজার সড়ক, গোলদিঘীর পাড়, হাসপাতাল সড়ক, স্টেডিয়াম সড়কের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ও নাজুক। আর রবিবার সকাল আর বিকেলে ওই সড়ক গুলোতে সরেজমিনে গিয়ে এই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। বৃষ্টির দিনে সংস্কার কাজ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা আর ঢালাও ভাবে সংস্কার কাজের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন শহরবাসী। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্দিষ্ট সিডিউল না মেনে যেমনি-তেমনি ভাবে কখনো দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ করার কারণেই সড়কগুলোর স্থায়ীত্ব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায় বলেও ধারণা সচেতন মহলের। তবে সড়ক বিভাগ বলছেন বৃষ্টির জন্য তারা কাজ করতে পারছে না। বৃষ্টি থেমে গেলেই প্রধান সড়কের (সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন) সংস্কার কিংবা গর্তগুলো ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। তবে শহরের ভিতরের অলি-গলির সড়কগুলোর দুর্দশা এবং দুর্ভোগ থেকে পৌরবাসি মুক্তি পাবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়। গত মাস দেড়েক ধরে চলমান বৃষ্টিতে সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করা আরো কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভার শতকরা ৭০ থেকে ৮০ জন নাগরিককে। বাজারঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী কাশেম, বাবু, নয়ন, রহিম, মিজানুল করিম জানান, কয়েক মাস আগে এ সড়কটির কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস মসজিদ এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সড়কের উপরেই। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ছোটকাট যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে। গোলদিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা রতন চৌধুরী জানান-বর্তমানে গোলদিঘীর পাড় এলাকার সড়কের যে অবস্থা সেখানে চলাচল করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই ভোগান্তি থেকে কখন মুক্তি মিলবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা। কক্সবাজার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবির বলেন-ঈদের আগে গোলদিঘীর পাড় ও হাসপাতাল সড়কের ক্ষত স্থানগুলো ভরাট করা হয়েছিল। বৃস্টির কারণে তা আবার উঠে গেছে। তিনি এই সড়কের টেন্ডার হয়েছে বলে বৃষ্টির পরে কাজ শুরু করা কথা জানান। তবে কিছুটা হলেও স্বস্তির আশ্বাসের কথা শুনিয়েছেন কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। তিনি বলেন-প্রতিনিয়ত সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কগুলোর সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে বৃষ্টি দেয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি থামলে কিংবা রৌদ উঠলেই প্রধান সড়কে সংস্কার কাজ চালানো হবে। অন্যদিকে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে একাধিকবার মোবাইল করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি।

Top